সহজপাঠ

এটি নিরীক্ষাধর্মী প্রাথমিক বিদ্যায়তন। ১৯৮১ সন থেকে এটি ধাপে ধাপে এগিয়েছে। পাঠদানের পাশাপাশি পাঠক্রম, পাঠদান পদ্ধতি, মূল্যায়ন ও আনুষঙ্গিক সকল বিষয়ে মানোন্নয়নের লক্ষ্যে এখানে সচেতনভাবে নিয়মিত কাজ হয়। এখানে চার বছরের শিশুরা বিদ্যাচর্চা শুরু করে। খেলাপড়ার দল (প্লে গ্রুপ) সহ ৩ বছর প্রাক-প্রাথমিক স্তরে শিক্ষা গ্রহণ করে। তারপর প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠগ্রহণ করে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে। শিক্ষাবর্ষ ‘জানুয়ারি - ডিসেম্বর’। সরকারের নতুন শিক্ষানীতির আলোকে ২০১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্কুলের শ্রেণি বৃদ্ধির কাজ শুরু হয়েছে।

সহজপাঠের বিশেষত্ব হল:
  • মান সম্পন্ন আধুনিক বাংলা মাধ্যম স্কুল।
  • ইংরেজি ভাষা শিক্ষায় বিশেষ যত্ন।
  • গণিতকে বিজ্ঞানের ভাষা হিসেবে গণ্য করে গণিত চর্চায় বিশেষ জোর।
  • হাতে-কলমে কাজের সুযোগসহ বিজ্ঞান শিক্ষা।
  • প্রকৃতির প্রতি মনোযোগ ও সংবেদনশীলতা।
  • গানসহ কলাচর্চায় গুরুত্ব।
  • শিশুদের চিন্তাশক্তি ও মননের ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়াস থাকে
  • মানবিক গুণাবলী ও সৃজনশীল প্রতিভা ও দক্ষতার বিকাশে যত্ন
  • মনের সাথে সাথে শারীরিক বিকাশের ওপর জোর।
  • এই শিক্ষা-অভিযাত্রায় অভিভাবকগণ সহযোগী হিসেবে গণ্য। তাই শিক্ষক-অভিভাবক সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।

ফুলকি বিশ্বাস করে -
  • শিক্ষার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে ছাত্রদের সকল সুপ্ত সম্ভাবনার বিকাশে যথাযথ সহায়তা ও সঙ্গ দেওয়া।
  • ছাত্ররা হবে ঐতিহ্যসচেতন কিন্তু সমকালীন মানুষ - বিশ্ববোধ ও সমকালীনতাসহ বাঙালি।

সহজপাঠে অনুসৃত পদ্ধতি হল :

  • প্রথম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো ধরণের পরীক্ষা নেই। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার ব্যাপার নেই। তবে শিক্ষার্থীর ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি না করে, নিজস্ব পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হয়।
  • মূল্যায়ন হয় লেটার গ্রেড পদ্ধতিতে নিজস্ব মানদন্ডে। পাঠ্য বিষয়ের বাইরে শিশুর মানবিক ও শৈল্পিক বিকাশ পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা হয়।
  • বাংলা ও ইংরেজি ভাষা এবং গণিতে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি শিশুদের সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশের যত্ন নেওয়া হয়।
  • লক্ষ্য রাখা হয় শ্রেণিকক্ষ ও স্কুলের পরিবেশ যেন থাকে ভীতিমুক্ত আনন্দদায়ক।
  • অব্যাহত নিরীক্ষার মাধ্যমে বয়স ও গ্রহণক্ষমতা অনুযায়ী নিজস্ব পাঠক্রম ও পাঠদান পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।
  • শিক্ষা সংক্রান্ত যোগাযোগ - মন্তেসরি, ওয়ালডরফ ও শান্তিনিকেতনের শিক্ষাপদ্ধতি অনুসরণ ছাড়াও অন্যান্য আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে নিজেদের মধ্যে নিয়মিত পঠনপাঠন ও চর্চার মাধ্যমে নিজস্ব শিক্ষাপদ্ধতি উদ্ভাবন ও তার নিরন্তর পরিমার্জন অব্যাহত রয়েছে।
  • ছাত্ররা এ প্রতিষ্ঠানের প্রাণ। তবে এ পর্যায়ে শিক্ষকরা মূল চালিকাশক্তি। তাই শিক্ষকদেরও নিয়মিত ক্লাস ও প্রশিক্ষণ চলে।

সহজপাঠ সারা বছর নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে, যেমন -
  • বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদ্যাপন
  • বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা
  • সাংস্কৃতিক উৎসব ইত্যাদি।

  • খেলাপড়া ও কুঁড়ি শ্রেণিতে ভর্তির কার্যক্রম শুরু হয় নভেম্বর থেকে।
  • এ পর্যায়ে ভর্তির ক্ষেত্রে শিশুদের কোনো লিখিত পরীক্ষা হয় না। অভিভাবক-শিশুর সাথে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমেই ভর্তির জন্য নির্বাচন করা হয়।
  • খেলাপড়া ও কুঁড়ি শ্রেণির ভর্তির ন্যূনতম বয়স যথাক্রমে ৩ ও ৪ বছর।
  • জানুয়ারি থেকে স্কুলের শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়।
  • বিদ্যালয় সপ্তাহে ৫ দিন চলে। শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি।
  • ভর্তির ব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
  • স্কুলের নির্দিষ্ট পোশাক ছাড়া কেউ শ্রেণিতে যোগ দিতে পারবে না।
  • ছাত্রের পোশাক : নমুনা অনুযায়ী চেক কাপড়ের সার্ট ও সাদা হাফ প্যান্ট।
  • ছাত্রীর পোশাক : নমুনা অনুযায়ী কলারসহ সাদা জামা ও নমুনা অনুযায়ী চেক কাপড়ের ফ্রিল।
  • পাদুকা : সাদা মোজাসহ সাদা রঙের কেডস্।
  • গরম জামা : গাঢ় লাল রঙের হাফ বা ফুল সোয়েটার।
  • ভর্তি ফর্ম দেওয়া, জমা নেওয়া, ভর্তি পরীক্ষা ও ভর্তির ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সূচী অনুসরণ করা হয়।
  • মাসিক বেতন ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়। মাসের ১ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে নির্দিষ্ট ব্যাংকে জমা দিতে হয়। ১৫ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ না করলে পরবর্তী মাসে বিলম্ব জরিমানাসহ বেতন নেওয়া হয়।
  • পরপর তিনমাস কারো বেতন পরিশোধ করা না হলে তার ভর্তি বাতিল বলে গণ্য হবে। স্কুলে পাঠ অব্যাহত রাখতে চাইলে ভর্তি ফি দিয়ে পুনরায় ভর্তি হতে হবে।
  • স্কুল ছুটির আধঘণ্টার মধ্যে প্রত্যেক অভিভাবককে স্ব স্ব সন্তানকে নিয়ে যেতে হবে এবং স্কুল শুরুর অন্তত দশ মিনিট আগে ছাত্রছাত্রীকে স্কুলে পৌঁছাতে হবে।
  • নিয়মাবলী সংশোধন, পরিমার্জন ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
  • উপকরণের মাধ্যমে খেলাধুলার ভিতর দিয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়।
  • হাতে কলমে অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতিতে পাঠ দেওয়া হয়।
  • বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষা শিক্ষায় চারটি দক্ষতা অর্জনের দিকে লক্ষ রাখা হয়।
  • বহিরঙ্গন ক্লাসের মাধ্যমে সরাসরি পর্যবেক্ষণ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ থাকে।
  • কুঁড়ি থেকে প্রথম শ্রেণি পর্যন্ত নিয়মিত শিশুর শিক্ষার মান মূল্যায়ন করা হয়।
  • দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত ষান্মাসিক ও চূড়ান্ত - এ দু পর্বে পরীক্ষার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের মূল্যায়ন করা হয়। এ ছাড়া পাঠের অগ্রগতি যাচাইয়ের লক্ষ্যে চার মাস অন্তর শিশুর সার্বিক মানের উপর মূল্যায়ন প্রতিবেদন দেয়া হয়।
  • পঞ্চম শ্রেণিতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয়, ফলে এ শ্রেণির বিদ্যালয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়নে অংশ নেয়ার প্রয়োজন নেই।

নোটিশ বোর্ড