অনুদান

 

ফুলকির সামগ্রিক উন্নয়ন কল্পে

ফুলকি বরাবরই স্বীকার করে, এটি সমাজেরই প্রতিষ্ঠান। নিজেদের চেষ্টা ও পরিশ্রমের সাথে সাথে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যাক্তি, প্রতিষ্ঠানের মানসিক ও আর্থিক সহযোগিতায় ফুলকি আজ এ অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে। এ সহযোগিতা অংকে কতটা বড় কিংবা ছোট তা হিসেব করে নয় বরং ভালোবাসাটাকে মুখ্য রেখেই ফুলকির পথচলা। সমাজের নানা স্তরের মানুষের অবদান এতে সম্পৃক্ত। ফুলকিও নিয়ত চেষ্টা করছে শিশুদের মধ্যদিয়ে সমাজে সুন্দর প্রভাব রাখতে। ফুলকি বিশ্বাস করে, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে সবার। সুষ্ঠু সমাজের স্বপ্নে আরও নানা প্রকল্প ও ভাবনা রয়েছে ফুলকির। তা বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা হাত ফুলকির প্রয়োজন

সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পে

ফুলকির গন্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর সমাজে সঠিক শিক্ষা বিস্তারে এই প্রকল্প হতে পারে যুগোপযোগী। শিশুকিশোরদের মানসিক অস্থিরতা ও বিকৃতি রোধে এটি অন্যতম ভূমিকা রাখতে পারে। এর সান্নিধ্যে থাকা শিশুকিশোররাই হয়তো একদিন বাস্তবায়ন করবে স্বপ্নের বাংলাদেশ। এ প্রকল্প আরও ছড়িয়ে দিতে ও বেগবান করতে সকলের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।>

গ্রামীণ শিক্ষাঙ্গন নির্মাণ

শহরে যেসব স্কুল গড়ে উঠেছে- বিশেষত বেসরকারি খাতে - তা সাধারণত মাঠ বা প্রাঙ্গণ ছাড়া অপরিসর ভবনেই অবস্থিত। নগর থেকে খোলা মাঠ, ফাঁকা জায়গা এবং প্রকৃতি প্রায় সম্পূর্ণ নির্বাসিত হয়েছে। শিশু-কিশোরদরে মধ্যে সামাজিকীকরণের সমস্যা বাড়ছে, এমনকি কথা বলা ও অন্যান্য বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ বিলম্বিত বা ব্যাহত হতে দেখা যাচ্ছে। আলোবাতাস এবং মুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন এই শিশুদের স্বাভাবিক সংবেদনশীলতা কমছে, সৃজনশীল ক্ষমতার বিকাশ ঘটছে না, বরং নানা বৈদ্যুতিন ডিভাইসের প্রতি আসক্তি তাদের মেজাজী, অসহিষ্ণু করে তুলছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গতানুগতিক ভূমিকা এ পরিস্থিতি পাল্টে শিশুর সুষ্ঠু স্বাস্থ্যকর মানবিক বিকাশ নিশ্চিত করতে পারছে না। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বিশেষত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মত বাঙালি মনীষী বারবার শিশুর বিকাশে প্রকৃতির অপরিহার্যতার কথা বলেছেন। একই  সাথে মানবিক গুণাবলির বিকাশে যৌথ কাজ, খেলাধূলা ও শিল্পকলা চর্চা যাকে সামগ্রিকভাবে জীবনশৈলীর চর্চা বা এক কথায় সংস্কৃতি চর্চা বলতে পারি তার গুরুত্বের কথাও রবীন্দ্রনাথসহ মনীষীরা বলেছেন।

বাস্তবতা ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে শিশু প্রতিষ্ঠান ফুলকি শহরের স্কুলটি পরিচালনার পাশাপাশি দেশের স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্যে একটি গ্রামীণ শিক্ষাঙ্গণ প্রতিষ্ঠাকে জাতির জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে মনে করে। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে আমরা ‘ফুলকি শিশুবিকাশ গ্রামীণ শিক্ষাঙ্গন’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি>

এই প্রকল্পের সুযোগসুবিধা আমাদের ট্রাস্ট পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ফুলকি সহজপাঠ উচ্চ বিদ্যালয়’ এবং সাংস্কৃতিক স্কুল ‘সোনারতরীর’ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। স্কুল পর্যায়ের আগ্রহী যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখানে তাদের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে দিনব্যাপী কিংবা ২-৩ দিনের আবাসিক ক্যাম্প করতে পারবে। এটি হবে একটি দৃষ্টান্তমূলক আদর্শ গ্রামীণ শিক্ষাঙ্গন। এরকম শিক্ষাঙ্গন দেশের অন্যান্য জেলায়ও প্রতিষ্ঠিত হওয়া জরুরি।

প্রকল্পে যা কিছু সংযুক্ত থাকবে

ভবন, শ্রেণিকক্ষ, হল ঘর, ছাত্রাবাস, শিক্ষক ও অতিথিশালা, জিমনেসিয়াম, সাঁতার পুকুর, মাঠ, মঞ্চ,জাদুঘর ও গ্যালারি, পাঠাগার, বিজ্ঞান গবেষণাগার, দাতব্য চিকিৎসালয়, বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ, ঝিল - পাখির অভয়ারণ্য, উদ্যান ও বনভোজনের স্থান,মৌসুমি ফসল ও ফলের চাষাবাদের স্থান ও নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা।

সকলরে আন্তরকি প্রচষ্টোয় অন্যান্য প্রকল্পরে মতো এ প্রকল্পেও আমরা সফলতার প্রত্যাশা রাখছি।

মানবিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ

ফুলকির জন্মলগ্ন থেকে ফুলকি পরিবারের সদস্যরা সচেষ্ট থেকেছে চারপাশের মানুষকে নিয়ে ভালো থাকার। শুধু নিজের গণ্ডিকে প্রাধান্য না দিয়ে সকলের আপদকালীণ সময়ে ফুলকি পরিবার বরাবরই সচেতন। দলগত নানামুখী মানবিক কার্যক্রম ফুলকি অব্যাহত রেখেছে শুরু থেকেই। সাম্প্রতিক করোনা সংকট কালেও ফুলকি পরিবার মাঠপর্যায়ে কাজ করেছে। তাই আসুন হাতে হাত রেখে দাঁড়াই। দেশ, মানুষ, প্রাণ- প্রকৃতিকে ভালো রাখি।