প্রচ্ছদ
নিউজ
একক নিউজ

করোনাকালে ফুলকির বৈদ্যুতিন বর্ষবরণ

মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল, ২০২১ ~ সকাল ০৯:১৯ মিনিট

দীর্ঘদিন শিশু কিশোররা গৃহবন্দী। লকডাউন ও সামাজিক দূরত্ব তাদের শারীরিক, মানসিক ও বৌদ্ধিক বিকাশে চরমভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাদের কথা ভেবেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফুলকি ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮ বাংলা নববর্ষে দিনব্যাপী নানা বৈদ্যুতিন আয়োজন করেছে। সকাল ১০:৩০টায় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দিয়ে বর্ষবরণ শুরু হয়। এতে সহজপাঠ, সোনারতরী ও নৃত্যাঞ্জলির শিশুকিশোররা অংশগ্রহণ করে। শুরুতেই শিক্ষার্থীরা 'এসো হে বৈশাখ 'গানটির মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে। ফুলকির অধ্যক্ষ শীলা মোমেন তাঁর বার্তায় জানান, বর্তমানে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। তাদের জন্যে প্রযুক্তির মাধ্যমে বাড়িতে বসে লেখাপড়া ও সাংস্কৃতিক পাঠের ব্যবস্থা করা হলেও তা যথেষ্ট নয়। তাদের খোলা আকাশের নিচে প্রকৃতির সান্নিধ্যে যেতেই হবে। এসময়ে বড়দের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা নববর্ষকে আনন্দের সাথে বরণ করে নেব যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে। এ কঠিন সময় পারিবারিকভাবে এবং প্রযুক্তি ব্যাবহারের মাধ্যমে পরস্পরের সাথে প্রীতি বিনিময় করে নববর্ষ পালন করবো। এ আয়োজনে সহজপাঠের শিক্ষার্থী লুবাবা ইলমিয়াত ও সোনারতরীর দূরশিক্ষণের শিক্ষার্থী অধীতি চন্দ কবিতা পাঠ করে। সোনারতরীর শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় গান 'বুঝি কালবৈশাখী ' ও 'আকাশ জুড়ে শুনিনু' বেশ হৃদয়গ্রাহী ছিল। এতে অংশ নেয় মিথিলা, অর্চি, রাজন্যা, নয়নিকা ও রুদ্রিতা। নৃত্যাঞ্জলির কত্থক ও ভরতনাট্যম বিভাগের দূরশিক্ষণের পরিবেশনাও সকলকে মুগ্ধ করে। এতে অংশ নেয় কত্থক বিভাগে অস্মি, সংগীতা ও উৎসা। ভরতনাট্যম বিভাগে অংশ নেয় অক্ষরা, প্রিয়ন্তি, স্বপ্নীলা, সামিন ও সেঁজুতি। সহজপাঠ ও সোনারতরীর শিক্ষার্থীদের নিয়ে ফুলকির শিক্ষক বিদ্যুৎ সাহার পরিচালনায় পরিবেশিত হয় চমৎকার ব্রতচারী নৃত্য। দূরশিক্ষণ শিক্ষার্থী অনিরুদ্ধ ও পয়মন্তির 'জব্বারের বলি খেলা ' ও 'বাংলাদেশের পিঠা' নিয়ে দুটি তথ্যচিত্রও ছিল অনবদ্য। ফুলকি ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি আবুল মোমেন তাঁর বার্তায় জানান, যদিও আমরা করোনা অতিমারির মধ্যে আছি তব্ওু এসময় ভয় না পেয়ে বরং সাবধানে থাকবো। মানুষ সবসময় নানা রকম চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সামনের দিকে এগিয়েছে। এ কঠিন সময়ে বিচ্ছিন্ন না হয়ে বরং বই পড়ে, গান গেয়ে এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের সাধ্যকে বাড়িয়ে বড় মাপের কাজে যুক্ত থাকতে হবে। দুপুর ১২টায় ফুলকির শিক্ষক কামরুন নাহার আখিঁর সঞ্চালনায় শুরু হয় বৈদ্যুতিন বই মেলা। প্রায় ৭৭ রকমের বই নিয়ে শিশুকিশোরদের জন্য বইয়ের স্বপ্নরাজ্য সাজিয়ে বসেছিলেন ফুলকির গ্রন্থাগারিক উমা ব্যানার্জি ও সহগ্রন্থাগারিক তসলিমা শাহপার কলি। গল্প, ছড়া-কবিতা, জীবনী, ভ্রমণ কাহিনী, গোয়েন্দা কাহিনী, বিজ্ঞান কল্পকাহিনিসহ আরও নানা বইয়ের সমাহার ছিল খুবই উপভোগ্য। ঐদিন দুপুর ২টায় শুরু হয় দূরশিক্ষণ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আঁকা ছবি নিয়ে বৈদ্যুতিন চিত্র প্রদর্শনী। এতে ৩৬ জন শিক্ষার্থীর ৩৬টি ছবি স্থান পায়। ফুলকির শিক্ষক আরিফুজ্জামানের ধারণকৃত এই প্রদর্শনীটি সকলের হৃদয় কাড়ে। বিকেল ৪টায় বিজ্ঞান শিক্ষক রুমকি চক্রবর্তীর উপস্থাপনায় শুরু হয় শিশুকিশোরদের বৈদ্যুতিন বিজ্ঞান আয়োজন। বেশ কয়েকটি পরীক্ষণে অংশ নেয় সহজপাঠের শিক্ষার্থী আরিশ, নাদিরা, তাসনুভা ও সপ্তর্ষি। 'বিশ্ববিজ্ঞানের সহযাত্রীরা ' শিরোনামে স্লাইড শো পরিচালনা করেন ফুলকির শিক্ষক সিমি বিশ্বাস। এছাড়া দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শতরূপার 'পরিপাকতন্ত্র' ও সপ্তদীপার 'বৃষ্টিপাত' বিষয়ে স্লাইড শো সবার মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। এরপর বিজ্ঞান শিক্ষক শবনমের উপস্থাপনায় ছিল মহামারী ও মানবসভ্যতা। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৌমিলের প্রজেক্ট ছিল নিউটনের ৩য় সূত্র এবং আরিয়ানার চমৎকার প্রজেক্ট ছিল হাইড্রলিক লিফ্ট - দুটিই ছিল চমৎকার ও প্রশংসনীয়। অনুষ্ঠানমালার আকর্ষণীয় মঞ্চসজ্জায় ছিলেন চারুকলার শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক।

নোটিশ বোর্ড

May17
১৪২৮ শিক্ষাবর্ষে ফুলকি সোনারতরীতে ভর্তির অনলাইন ফরম Click Here.

Apr21
১৪২৮ শিক্ষাবর্ষে ফুলকি সোনারতরীতে ভর্তির অনলাইন ফরম Click Here.

Apr14
বন্ধুরা, ফুলকি বৈদ্যুতিন বইমেলায় তোমাদের পছন্দের বইগুলো নিচের লিংকে গিয়ে সংগ্রহ করে নিতে পারো - Click Here.