ছোটদের বিজ্ঞান গবেষণাগার ‘গ্যালিলিও’

এটি ছোটদের বিজ্ঞান চর্চা কেন্দ্র। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ের বিজ্ঞানের ব্যবহারিক শিক্ষার উপযোগী করে এটি তৈরি। এখানে প্রধানত সহজপাঠ ও সোনারতরীর শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানের নানা বিষয়ে হাতে-কলমে জ্ঞান অর্জন ও চর্চা করে। তাছাড়া বিভিন্ন স্কুলের - বিশেষত যেসব স্কুলে বিজ্ঞান গবেষণাগার নেই - তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা ভর্তি হয়ে যোগ্য শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ব্যবহারিক বিজ্ঞানের ক্লাস করতে পারে। ১৯৮৯ সনের মার্চ থেকে এটি চালু হয়েছে। উদ্বোধন করেছিলেন বাংলাদেশে ছোটদের বিজ্ঞান-সাহিত্যের পথিকৃৎ ড. আবদুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দীন। এখানে পৃথিবী, মহাবিশ্ব, জীবজগৎ, পরিবেশ, আবিষ্কার, বিজ্ঞানমনীষী ইত্যাদি বিচিত্র বিষয় চর্চার মাধ্যমে শিশুদের মনের পরিধির ব্যাপ্তি ঘটে, তাদের ধারণাগুলো স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক হয়, হাতেকলমে পরীক্ষানিরীক্ষার মাধ্যমে ধারণাগুলো স্পষ্ট হয় তাদের মধ্যে এ বিশ্বের এবং মানবসভ্যতার যোগ্য উত্তরাধিকারী হওয়ার সাহস ও সদিচ্ছার জন্ম হয়। লক্ষ্য থাকে যেন পুরো প্রক্রিয়াটি চলে সৃষ্টিশীলতার আনন্দের মধ্য দিয়ে।

বর্তমানে স্কুলে ছাত্রসংখ্যার চাপ, ছাত্র-শিক্ষক হারের অকার্যকর অবস্থা, গবেষণাগারের অভাব, যোগ্য বিজ্ঞান শিক্ষকের অভাব মিলে স্কুল পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষা সঠিকভাবে হচ্ছে না। তাছাড়া সমাজে ব্যবসায় ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ঝোঁক বেড়ে যাওয়ায় স্কুল পর্যায়ে বিজ্ঞান বিভাগে ছাত্রসংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। বিজ্ঞানে মেধাবী ছাত্রেরও অভাব দেখা দিয়েছে। অথচ বিজ্ঞান শিক্ষা ও চর্চার দুর্বলতা রেখে দিয়ে দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সম্ভব নয় বর্তমান বিশ্ব যেসব মারাত্মক সংকটে বিপর্যয়ের সম্মুখীন তা মোকাবিলার মত মানবসম্পদ তৈরি।

আমরা মনে করি একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই হাতে কলমে পরীক্ষানিরীক্ষার সুযোগসহ বিজ্ঞানচর্চার ধারা তৈরি করতে হবে। ফুলকি এক্ষেত্রে একটি ভূমিকা পালন করছে।
  • এই গবেষণাগারে সহজপাঠের ১ম শ্রেণি - ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ২৫০ জন ছাত্র, সোনারতরীর বিস্ময় থেকে সৃষ্টি পর্যন্ত প্রায় ২৫০ জন ছাত্রসহ ৫০০ ছাত্রকে এ গবেষণাগারে হাতেকলমে বিজ্ঞান শিক্ষা দেওয়া হয়।
  • অন্যান্য স্কুল আগ্রহ প্রকাশ করলে তাদের এ গবেষণাগারের সেবা গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।
  • অন্যান্য স্কুলের ছাত্রদের জন্যে বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িক কর্মশালা, বক্তৃতানুষ্ঠান বা অন্যান্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
  • বিজ্ঞান চর্চায় উৎসাহ ও আগ্রহ সৃষ্টির জন্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়, যেমন - মহান বিজ্ঞানীদের জন্ম-মৃত্যু দিবস পালন, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার বা ঘটনা স্মরণ, আবিষ্কারের সাথে ছাত্রদের পরিচয় সাধন, শিশুদের জন্যে বৈজ্ঞানিক অভিযান আয়োজন, দেশের বিশিষ্ট বিজ্ঞানীদের সাথে পরিচয় ঘটানো, বিশ্বের সাথে শিশুদের সম্যক পরিচয় সাধন, বিজ্ঞানভিত্তিক কোনো গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান আয়োজন ইত্যাদি।

নোটিশ বোর্ড